ভ্রমণে একে অপরের সুন্দর ছবি তুলতে তিনটি বিষয় মনে রাখুন: মানুষ আর জায়গাকে একসঙ্গে ফ্রেমে রাখুন, ভোরবেলা বা বিকেলের শেষ দিকের মতো নরম আলোয় ছবি তুলুন, আর অন্যজনকে "শুধু পোজ দাও" না বলে তাঁকে কিছু একটা করতে দিয়ে স্বচ্ছন্দ হতে সাহায্য করুন। কয়েকটি ছবি তুলুন, একে অপরকে দেখান এবং প্রয়োজনমতো বদলে নিন। দুজনের একসঙ্গে ছবির জন্য ছোট ট্রাইপডে ফোনের টাইমার বা পথচারীকে ভদ্রভাবে অনুরোধ করা সাধারণত ভালো কাজ করে।
পেশাদার যন্ত্রপাতির দরকার নেই। আপনি সঙ্গী, বন্ধু বা পথে পরিচিত কারও সঙ্গে ভ্রমণ করুন না কেন, বেশির ভাগ ভ্রমণ-ছবির জন্য একটি আধুনিক ফোনই যথেষ্ট। পার্থক্য তৈরি করে আপনি ফ্রেম কীভাবে সাজান, আলো কোন দিক থেকে আসে, আর ক্যামেরার সামনের মানুষটি কতটা স্বস্তিতে থাকেন।
ভ্রমণের ভালো পোর্ট্রেট কীভাবে ফ্রেম করবেন?
ভ্রমণের পোর্ট্রেট একসঙ্গে দুটি গল্প বলে: মানুষটি কে আর তিনি কোথায়। কম্পোজিশনের কয়েকটি মৌলিক ধারণা দুটি গল্পই ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে:
- গ্রিড ব্যবহার করুন। ক্যামেরা অ্যাপে গ্রিড লাইন চালু করুন এবং মানুষটিকে ঠিক মাঝখানে না রেখে একটি উল্লম্ব রেখার ওপর রাখুন। এতে স্থাপত্য, রাস্তা বা দৃশ্যের জন্য জায়গা থাকে।
- কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ঠিক করুন। জায়গাটি যদি মূল আকর্ষণ হয়, পিছিয়ে যান এবং মানুষটিকে ফ্রেমে ছোট রাখুন। মানুষটি যদি মূল আকর্ষণ হন, কাছে যান এবং পটভূমিকে নরম হতে দিন।
- পটভূমির দিকে নজর দিন। খেয়াল করুন কোনো খুঁটি, সাইনবোর্ড বা ভিড় যেন মানুষটির মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে বলে না মনে হয়। এক পা বাঁয়ে বা ডানে সরলেই প্রায়ই সমস্যা মিটে যায়।
- দিগন্ত সোজা রাখুন। হেলে থাকা সমুদ্র বা শহরের রেখা ছবিকে অযত্নের মতো দেখানোর সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি।
- উচ্চতা বদলান। মোটামুটি বুকের উচ্চতা থেকে ছবি তুললে সাধারণত মানুষকে ভালো দেখায়। একটু ঝুঁকে তুললে বড় ভবনের সামনে কাউকে লম্বা দেখাতে পারে।
মানুষটির চারপাশে, বিশেষ করে পায়ের কাছে, একটু জায়গা রাখুন। পরে ছবি ক্রপ করা সহজ, কিন্তু কেটে যাওয়া পা আর ফেরত আনা যায় না।
সবচেয়ে ভালো আলো খুঁজুন
যেকোনো সেটিংয়ের চেয়ে আলো ছবিকে বেশি বদলে দেয়। সূর্যোদয়ের পরের এক ঘণ্টা আর সূর্যাস্তের আগের এক ঘণ্টা মুখের জন্য উপযোগী উষ্ণ, নরম আলো দেয়। দুপুরের দিকে সূর্য মাথার ওপর থাকে আর চোখ ও নাকের নিচে কড়া ছায়া ফেলে। তখন ছবি তুলতে হলে খোলা ছায়া খুঁজুন, যেমন ভবন বা গাছের ছায়া, যেখানে আলো সমান থাকে।
সূর্য কোথায় আছে খেয়াল করুন। সূর্য যদি ঠিক মানুষটির পেছনে থাকে, মুখ খুব অন্ধকার আসতে পারে; এক্সপোজার ঠিক করতে ফোনের পর্দায় মুখের ওপর ট্যাপ করুন, অথবা মানুষটিকে একটু ঘুরিয়ে দিন যাতে আলো মুখে পড়ে। ঘরের ভেতরে মানুষটিকে জানালার কাছে, জানালার দিকে মুখ করে রাখুন। রাতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করে দোকানের জানালা, রাস্তার বাতি বা ক্যাফের আলো কাজে লাগান, কারণ ফ্ল্যাশ মুখকে প্রায়ই চ্যাপ্টা দেখায়।
ক্যামেরার সামনে কাউকে স্বচ্ছন্দ হতে কীভাবে সাহায্য করবেন?
ক্যামেরা তাক করা হলে বেশির ভাগ মানুষ অস্বস্তি বোধ করেন। সবচেয়ে ভালো ভ্রমণ-ছবি প্রায়ই আসে সাজানো নয়, স্বাভাবিক মুহূর্ত থেকে। সেখানে পৌঁছানোর কয়েকটি উপায়:
- ভঙ্গি নয়, কাজ দিন। "আস্তে আস্তে আমার দিকে হেঁটে এসো", "পানির দিকে তাকাও" বা "সানগ্লাসটা ঠিক করো" — এমন কথা নড়াচড়া তৈরি করে আর ক্যামেরা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
- ছবি তোলার সময় কথা বলুন। প্রশ্ন করুন, মজার কিছু বলুন বা দিনের গল্প করুন। "আনুষ্ঠানিক" হাসির ফাঁকে আসল অভিব্যক্তি দেখা দেয়।
- বার্স্ট মোড ব্যবহার করুন। হাঁটা বা হাসির ছবির জন্য শাটার বোতাম চেপে ধরে রাখুন বা বার্স্ট মোড চালু করুন, পরে সেরা ফ্রেমটি বেছে নিন।
- হাতের একটা কাজ দরকার। কফির কাপ, টুপি, মানচিত্র বা ব্যাগের ফিতা ধরে থাকা দুপাশে ঝুলে থাকা হাতের চেয়ে বেশি স্বাভাবিক দেখায়।
- ফলাফল দেখান। কয়েকটি ছবির পর একসঙ্গে ছবিগুলো দেখুন। এতে আস্থা তৈরি হয় এবং দুজনেই বুঝতে পারেন কী বদলাতে হবে।
মতামত কীভাবে দেবেন তা ঠিক করে নিন। "আরেকটা, থুতনি একটু নিচে" শুনতে "এটা ভালো হয়নি"-এর চেয়ে সহজ। পালা করেও তুলুন: একে অপরের ছবি তুললে দুজনেই জানেন অন্য পাশে থাকা কেমন লাগে।
দুজনের একসঙ্গে ছবি: টাইমার, ট্রাইপড আর ফোন স্ট্যান্ড
একসঙ্গে ছবি চাইলে টাইমার ফ্রেমের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ দেয়। বেশির ভাগ ক্যামেরা অ্যাপে তিন বা দশ সেকেন্ডের টাইমার থাকে; দশ সেকেন্ডে শান্তভাবে ফ্রেমে ঢোকার সময় পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ভ্রমণের জন্য একটি ছোট, হালকা ট্রাইপড বা রেলিংয়ে জড়িয়ে রাখা যায় এমন নমনীয় ফোন স্ট্যান্ডই যথেষ্ট। নিচু দেয়াল, বেঞ্চ বা ব্যাগের ওপরের অংশও কাজে লাগতে পারে।
কিছু ফোনে স্মার্টওয়াচ, ভয়েস কমান্ড বা ছোট ব্লুটুথ রিমোট দিয়ে ছবি তোলা যায়, ফলে ফ্রেম দেখে দুজনেই প্রস্তুত হলে বোতাম চাপা যায়। ফোন যেখানেই রাখুন, নজর রাখার মতো কাছে থাকুন, আর ভিড়ের জায়গায় অযত্নে ফেলে রাখবেন না। জাদুঘর, স্মৃতিস্তম্ভ বা অন্যান্য স্থানে ট্রাইপড ব্যবহারের আগে স্থানীয় নিয়ম দেখে নিন, কারণ কিছু জায়গায় অনুমতি নেই।
অপরিচিত কাউকে ছবি তুলে দিতে কীভাবে বলবেন?
পথচারীকে অনুরোধ করাই প্রায়ই দুজনের একসঙ্গে ছবি পাওয়ার দ্রুততম উপায়। কয়েকটি সহজ ধাপ কাজটি মসৃণ করে:
- ঠিক মানুষ বাছুন। যাঁদের সঙ্গে ক্যামেরা আছে বা যাঁরা নিজেরা ছবি তুলছেন, তাঁরা প্রায়ই আনন্দের সঙ্গে সাহায্য করেন, আর আপনিও বদলে তাঁদের ছবি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন।
- আগে থেকে ছবি প্রস্তুত করুন। ফোন হাতে দেওয়ার আগে ক্যামেরা খুলুন, জুম ঠিক করুন এবং কোথায় দাঁড়াবেন ঠিক করুন।
- সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিন। কেমন ফ্রেম চান দেখিয়ে দিন, যেমন "পুরো সেতুটা যেন আসে, প্লিজ", আর লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি কয়েকটি ছবি চান।
- ধন্যবাদ দিন। একটি হাসি আর স্থানীয় ভাষায় ধন্যবাদ অনেক কাজ করে।
কার হাতে ফোন দিচ্ছেন সে ব্যাপারে বিবেচনা কাজে লাগান, বিশেষ করে ভিড়ভরা পর্যটনস্থলে। আপনি অনুরোধ করার আগেই কেউ যদি ফোন নিতে জোর করেন, না বলা একদম ঠিক।
সম্মতি, গোপনীয়তা ও ছবি শেয়ার করা
ভালো ভ্রমণ-ছবি তাতে থাকা মানুষদের সম্মান করে। ভ্রমণসঙ্গীর ছবি পোস্ট করার আগে জিজ্ঞেস করুন তিনি তাতে খুশি কি না, আর জায়গা বা তারিখ দেখাতে চান কি না। সম্প্রতি পরিচয় হলে এটা আরও জরুরি: পথে পরিচিত কেউ হয়তো নিজের মুখ অনলাইনে একেবারেই চান না, আর সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত।
অপরিচিতদের ক্ষেত্রেও একই কথা। বিশেষ করে বাজার, ধর্মীয় স্থান বা ব্যক্তিগত বাড়িতে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, আর "না" শুনলে হাসিমুখে মেনে নিন। কিছু জায়গায় ছবি তোলা একেবারেই নিষেধ, আর প্রকাশ্য স্থানে মানুষের ছবি তোলার নিয়মও সব জায়গায় এক নয়, তাই যেখানে আছেন সেখানকার নিয়ম দেখে নিন। কোনো জায়গা ছেড়ে যাওয়ার পর সেটি নিয়ে পোস্ট করার কথা ভাবুন, যাতে আপনার সঠিক অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পায়।
অন্য কারও সঙ্গে শহর ঘুরলে ছবি তোলা সহজ ও মজার হয়: একজন আলো লক্ষ করেন, অন্যজন দৃশ্যটি ধরেন। mytripdate-এ আপনি দেখতে পারেন একই তারিখে একই শহরে কে থাকবেন, আর ছবি তোলার হাঁটা, সূর্যোদয় দেখার জায়গা বা পুরোনো রাস্তায় একটি দিন কাটানোর পরিকল্পনা করতে তাঁকে বার্তা পাঠাতে পারেন। আগে সাইটে কথা বলুন, প্রোফাইল যাচাই করা কি না দেখুন, প্রকাশ্য জায়গায় দেখা করুন, আর একে অপরের ছবি শেয়ার করতে দুজনেই স্বচ্ছন্দ কি না খোলাখুলি আলাপ করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ভ্রমণ-ছবির জন্য দিনের সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
সূর্যোদয়ের পরের এক ঘণ্টা আর সূর্যাস্তের আগের এক ঘণ্টা সাধারণত সবচেয়ে নরম, উষ্ণ আলো দেয়। ভোরে জনপ্রিয় স্থানগুলোতে ভিড়ও কম থাকে।
ক্যামেরা লাগবে, নাকি ফোনই যথেষ্ট?
বেশির ভাগ ভ্রমণ-পোর্ট্রেটের জন্য সাম্প্রতিক একটি ফোনই যথেষ্ট। লেন্স পরিষ্কার রাখুন, গ্রিড ব্যবহার করুন এবং আলো ও কম্পোজিশনে মন দিন; এগুলো যন্ত্রের চেয়ে বেশি পার্থক্য তৈরি করে।
ছবিতে আড়ষ্ট দেখানো কীভাবে এড়াব?
স্থির দাঁড়িয়ে না থেকে নড়াচড়া করুন: হাঁটুন, ঘুরুন, হাসুন বা আশপাশের কিছুর সঙ্গে যুক্ত হন। অনেক ছবি তুলুন এবং পরে স্বাভাবিক মুহূর্তগুলো বেছে নিন।
শেষ কথা
একে অপরের সুন্দর ছবি আসে ছোট ছোট অভ্যাস থেকে: মানুষ আর জায়গাকে একসঙ্গে রাখুন, নরম আলো খুঁজুন, ভঙ্গির বদলে কাজ দিন, আর ক্যামেরার পেছনে পালা করুন। দুজনের ছবির জন্য টাইমার বা কোনো সহৃদয় অপরিচিতের সাহায্য নিন, আর শেয়ার করার আগে সবসময় জিজ্ঞেস করুন। সেরা ভ্রমণ-ছবি সেগুলোই, যা সেই দিনটি আর যাঁর সঙ্গে দিনটি কাটিয়েছেন তাঁকে আবার মনে করিয়ে দেয়।